করোনাভাইরাসের ইতিকথা।

ইংরেজিতে "corona" মানে "crown"। আর এর অর্থ হচ্ছে মুকুট। এটা এজন্য নামকরণ করা হয়েছে যে, এ ভাইরাসের গায়ে মুকুটের মতো অনেকগুলো অঙ্গানু রয়েছে। করোনাভাইরাস হচ্ছে একটি ভাইরাস শ্রেণি। এই শ্রেনির ভাইরাস বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। এই ভাইরাস বাদুড় বহন করে। বাদুড় থেকে মানুষের মাঝে এটা ছড়ায়। অনেকেই হয়তো ছোটবেলা থেকেই বড়দের মুখে শুনে থাকবেন বাদুড়ে খাওয়া ফল না খেতে। এতে কঠিন রোগ হয়। সঠিক ই শুনতেন। ওরা করোনাভাইরাস বহন করে। যদিও অনেকে বলে থাকে এটা চীনের ল্যাবে তৈরি হয়েছে। এই কথাটা ভুল। এটা কি হতে পারে যে মানুষ একটা জীব সৃষ্টি করে জীবন দিবে? সর্বোচ্চ তারা সেটাকে হয়তো ল্যাবে সংগ্রহ করতে পারে কিন্তু সৃষ্টি করতে পারে না। এটি নিতান্তই আল্লাহর সৃষ্টি এবং বাদুড়ের মাধ্যমে বাহিত হয়।

এ ভাইরাস প্রথম কখন হানা দিয়েছিলো? ২০০২ সালে। তখন থেকেই এই ভাইরাস মানুষে ছড়িয়েছে এবং আজও। ২০০২ সালে করোনাভাইরাস যেই রোগটি সৃষ্টি করেছিলো তার নাম হচ্ছে SARS-CoV-2। এর সম্পূর্ণরূপ হচ্ছে Severe Acute Respiratory Syndrome- Corona Virus - 2002 । ২০০২ সালে হওয়ায় এর শেষে ২ দেয়া হয়েছে। এই রোগটি বর্তমান কোভিড-১৯ এর মতো কঠিন আর এতো ছড়ায়নি তখন। তাই হয়তো মানুষ তা জানেনা। এই রোগটির Reproductive Number (R0) কম ছিলো। এখানে Reproductive Number দিয়ে বুঝানো হচ্ছে রোগটির ছড়ানোর হার। সেটিও চীনের গংঢং এলাকা থেকে ছড়িয়েছিলো।

আবারও ২০১২ সালে এসে করোনা ভাইরাস আরেকটি রোগ সৃষ্টি করলো , যার নাম ছিলো MERS । এর পূর্ণরূপ হলো Middle East Respiratory Syndrome । এটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছিলো , তাই এর নাম Middle East হিসেবে রাখা হয়েছে। এটা SARS-CoV-2 এর চেয়েও কম ক্ষতিকর ছিলো। এর Reproductive Number ১ ছিলো বলে ছড়ায়নি। অর্থাৎ এই রোগটা গাণিতিক হারে ছড়াতো।

কিন্তু, বিপদ লাগলো ২০১৯ সালে এসে। এবার এই ভাইরাস আরেকটি কঠিন রোগ সৃষ্টি করলো। যার নাম হলো COVID-19। এর মানে হলো Corona Virus Disease - 2019 । ১৯ সালে ছড়িয়েছে বলে নামের মধ্যে ১৯ দিয়ে নামকরণ করা হয়েছে। এর Reproductive Number ২-৩ এর মধ্যে। অর্থাৎ প্রতি জন রোগী গড়ে দুইজনের চেয়েও বেশি জনকে আক্রান্ত করে। ফলে, এটা জ্যামিতিক হারে প্রচুর ছড়াচ্ছে। এই ভাইরাস আক্রমণের পাঁচদিন পর সাধারণত রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। তবে, কমপক্ষে দুইদিন পরও দেখা দিতে পারে এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন পরও দেখা দিতে পারে। কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষন দেখা দেয়ার দুইদিন আগ থেকে তার থেকে ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে তার কোনো লক্ষণ-ই দেখা যাবে না। এমনকি পরীক্ষা করেও তার নেগেটিভ আসতে পারে। তবে, তার থেকে ছড়াবে ঠিকই। এক্ষেত্রে সবারই সাবধানতা প্রয়োজন।

তবে, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আমাদের পূর্বে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস গত হয়েছে। যার Reproductive Number ছিলো ১৫ । তখন কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস বরং কম ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে এখন প্রয়োজন মহান রবের নিকট দোয়া করা এবং প্রতিষেধকের জন্য প্রচেষ্টা করা। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, "আল্লাহ প্রতিষেধক বিহীন কোনো রোগ আমাদের উপর পাঠান না। যে ব্যক্তি এটি (প্রতিষেধক) জানে, সে জানে আর যে জানে না সে জানে না।" 

Comments

Popular posts from this blog

সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টার ইতিকথা!

নাস্তিক আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ